ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ঝুলে যেতে পারে ডিপিডিসির এমডি নিয়োগ!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ০৯:১৯:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ০৯:১৯:৩৪ অপরাহ্ন
​ঝুলে যেতে পারে ডিপিডিসির এমডি নিয়োগ!
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনের জন্য যে তিন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়, তাঁদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বলা হচ্ছে, ওই তিনজনই আওয়ামী শাসনামলের সুবিধাভোগী। 

আর এদের মধ্য থেকে এমডি নিয়োগ হলে রাষ্ট্রের অন্যতম বিদ্যুৎ বিতরণী এই প্রতিষ্ঠানটি স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট কর্মকর্তার মুঠোয় চলে যাবে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেই পুরোনো বলয়ই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা পছন্দের লোককে এমডির চেয়ারে বসাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছে বিএনপি মতাদর্শের যোগ্য প্রার্থীদের। বাদপড়া এই প্রকৌশলীদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগ শাসনামলে ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডেসকো, ওজোপাডিকো, নেসকো ও ডিপিডিসিতে নির্বাহী পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহুবার পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিএনপি করার অপরাধে নিয়োগ পাননি।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, শনিবার (১৬ মে) সকালে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ জন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন, ডিপিডিসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম, পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রামাণিক, ইজিসিবির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ’র পিডিবির বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ডেসকোর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম, ডেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. জাকির হোসেন, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আকরাম উল্লাহ, পাওয়ার সেলের সাবেক পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন এবং আরইবির সদস্য (প্রকৌশল) মো. আব্দুর রহিম মল্লিক।

কিন্তু ফল প্রকাশের পর ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয় কিউ এম শফিকুল ইসলাম, মো. আমজাদ হোসেন এবং সৈয়দ আকরাম উল্লাহকে। আর এই তিনজনের নাম প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচিত তিনজনই অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ উপদেষ্টার কাছে নথিপত্রসহ চিঠি দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এদের মধ্য থেকে একজনকে ডিপিডিসির এমডি বানানোর অপচেষ্টা চলছে। আর এর জেরেই ঝরে পড়তে হয়েছে যোগ্য অনেক প্রার্থীকে, যাঁদের মধ্যে তিন থেকে চারজন রয়েছেন বিএনপি মতাদর্শের। তাঁরা যোগ্যতা থাকা সত্বেও স্বৈরাচার হাসিনার শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতের কোনো শীর্ষপদে নিয়োগ পাননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকার প্রথমদিকে থাকার পরও হয়েছেন বঞ্চিত।

এদিকে, ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানান, সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়োগসংক্রান্ত নথি ডিপিডিসি থেকে বিদ্যুৎ বিভাগে যায়নি।

সূত্র বলছে, ডিপিডিসির চলমান এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে এসেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে সূত্রের দাবি।

বাংলা স্কুপ/বিশেষ প্রতিবেদক/একেএস/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ